Thursday 15 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে আপাতত সরে এসেছেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫১ | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভে দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে, এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পর তেহরানে সামরিক হামলার হুমকি থেকে সাময়িকভাবে সরে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার রাতে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে যে ইরানে হত্যাকাণ্ড থামছে, এটি বন্ধ হয়েছে। এমনকি কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও আপাতত নেই। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আমি এমনটাই জেনেছি ‘ তবে এই তথ্যের সপক্ষে তিনি কোনো বিস্তারিত প্রমাণ দেননি এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিষয়টি যাচাই করছে বলে জানান।

বিজ্ঞাপন

গত কয়েকদিন ধরে ট্রাম্প বারবার ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলে আসছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ (হামলার জন্য প্রস্তুত) হয়ে আছে।

বিক্ষোভে প্রায় ৩ হাজার ৪২৮ জন ইরানি নিহত হওয়ার খবর এবং আসন্ন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য এলো। জানা গেছে, তিনি ইরানের ওপর হামলার সব ধরনের বিকল্প পর্যালোচনা করেছিলেন, কিন্তু কোনো একক সামরিক পদক্ষেপ বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘অন্য পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র থেকে তিনি নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে তেহরান প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ বন্ধ করেছে। তিনি বলেন, ‘আজ অনেক মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেগুলো হচ্ছে না, আমরা বিষয়টি নজরে রাখছি।।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সংস্থার মতে এই সংখ্যা ২ হাজার থেকে ১২ হাজারের মধ্যে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতারা ট্রাম্পকে হামলা না করার জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, মার্কিন হামলার জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পালটা আঘাত হানবে।

ইসরায়েলি ও আরব কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউজকে জানিয়েছেন, বর্তমান ইরান সরকার এখনো এতটা দুর্বল হয়ে পড়েনি যে সামরিক হামলা করলেই তাদের পতন ঘটবে।

এদিকে, ইসরায়েল বুধবার রাতভর ট্রাম্পের যেকোনো পদক্ষেপের অপেক্ষায় সতর্ক অবস্থায় ছিল। তবে তারা বিষয়টি নিয়ে নীরবতা পালন করছে যাতে তেহরান এই বিক্ষোভকে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট’ বলে প্রচার করার সুযোগ না পায়।
হিব্রু সংবাদমাধ্যম হ্যারেটজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, রাশিয়ার মাধ্যমে ইসরায়েল ইরানকে বার্তা পাঠিয়েছে, ইরান আগে হামলা না করলে ইসরায়েলও কোনো আক্রমণ করবে না।

নিউইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের বক্তব্যের পর পেন্টাগন তাদের বাহিনীকে ঘাঁটিতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একটি ‘অফ-র‌্যাম্প’ বা বিকল্প পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দূরপাল্লার বোমারু বিমানগুলোকেও স্ট্যান্ডবাই অবস্থা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, কাউকে ফাঁসিতে ঝোলানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। অন্যদিকে, বিক্ষোভের দায়ে প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এরফান সুলতানির ফাঁসি বুধবার কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। বৃহস্পতিবার ইরানের বিচার বিভাগ দাবি করেছে, সুলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে আইনের দৃষ্টিতে কেবল কারাদণ্ড সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর