সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে তথ্য এসেছে যে ইরান ৮০০ জন বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তাদের ফাঁসি কার্যকরের কথা ছিল।’
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর চাপের মুখে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে কেঁপে উঠেছে ইরান। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার তাদের ৪৭ বছরের শাসনামলে এত বড় মাত্রার বিক্ষোভ-আন্দোলনের মুখে কখনও পড়েনি।
বিক্ষোভের মূল কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের ফলে ইরানের জাতীয় মুদ্রা ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫।
জাতীয় মুদ্রার এই চরম অবমূল্যায়নের কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমসিম খাচ্ছে সাধারণ জনগণ।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন, যা দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি দেশজুড়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
এদিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে ইরানে সরাসরি মার্কিন হামলার আশঙ্কা আপাতত কম।