চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নতুন বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোকে ‘খুবই বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বেইজিং সফর চলাকালীন দেওয়া এই মন্তব্যে ট্রান্স-আটলান্টিক মিত্রদের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ আট বছর পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরকে লন্ডন যখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে, তখনই ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা যুক্তরাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে স্টারমার বেইজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফরকালে কয়েকটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে সমঝোতা হয়। এর মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের মেয়াদ ১৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিন করা এবং স্কচ হুইস্কির ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা চীনে প্রায় ১ হাজার ৯০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। স্টারমার এই অগ্রগতিকে ‘আরও পরিশীলিত ও শক্তিশালী সম্পর্কের ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে ট্রাম্পের মতে, চীনের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তিনি একইসঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাম্প্রতিক চীন সফর ও বাণিজ্যিক চুক্তিরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। কানাডার ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে ব্যবসাকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে তিনি উচ্চ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ১০ ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, বেইজিং সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে আগেই অবহিত করা হয়েছিল। একইসঙ্গে জানানো হয়, ট্রাম্প নিজেও আগামী এপ্রিলে চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও স্টারমারের সফর নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলপ অভিযোগ করেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখিয়েছেন। তবে এসব সমালোচনা নাকচ করে স্টারমার বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা যুক্তরাজ্যের কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।