থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুল। এর মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা আরও সুসংহত করলেন তিনি। তার নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টির এই বিজয়ে দেশটিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে তুলনামূলক স্থিতিশীল সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত সংঘাতের মধ্যে আনুতিন আকস্মিক নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয়তাবাদী আবেগ চরমে ওঠার সময়টিকে কাজে লাগাতেই রক্ষণশীল এই নেতা নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করেছিলেন। পরে এই কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়। কম্বোডিয়া সংকটকে কেন্দ্র করে জনতাবাদী পেউ থাই পার্টির প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আনুতিন দায়িত্ব নেন। এরপর ১০০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি সংসদ ভেঙে দেন এবং নতুন নির্বাচনের ডাক দেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে জয়ের পর আনুতিন চানভিরাকুল বলেন, ‘আজকের এই জয় কেবল ভূমজাইথাই পার্টির নয়, আপনি আমাদের ভোট দিন বা না দিন এটি সব থাই নাগরিকের জয়। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে থাই জনগণের সেবা করতে চাই।’
প্রায় ৯৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে দেখা যায়, ভূমজাইথাই পার্টি পেয়েছে প্রায় ১৯২টি আসন। প্রগতিশীল পিপলস পার্টি পেয়েছে ১১৭টি এবং একসময় প্রভাবশালী পেউ থাই পার্টি পেয়েছে ৭৪টি আসন।
রয়টার্সের হিসাবে, বাকি কয়েকটি দল মিলে ৫০০ আসনের সংসদে মোট ১১৭টি আসন পেয়েছে।
এর আগে, গত ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে দেওয়ার সময় আনুতিন বলেছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর দ্বন্দ্ব ও অকার্যকর পরিস্থিতির কারণে সংখ্যালঘু সরকার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
এদিকে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে গণভোটও হয়েছে। নির্বাচনের পাশাপাশি হওয়া এই গণভোটে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনীর প্রণীত সংবিধানের পরিবর্তে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হবে কি না।
সমালোচকদের মতে, ওই সংবিধান অনির্বাচিত ও অগণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত শক্তিশালী সিনেটের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছিল।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক গণনায় দেখা গেছে, প্রায় দুই-এক ব্যবধানে ভোটাররা নতুন সংবিধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।