ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনার সদিচ্ছা দেখায়, তবে ইরান পারমাণবিক চুক্তির ক্ষেত্রে আপস করতে প্রস্তুত।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত-রাভানচি এ কথা বলেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
তাখত-রাভানচি বলেন, ‘চুক্তি করার সদিচ্ছা প্রমাণের দায়িত্ব এখন আমেরিকার। তারা যদি আন্তরিক হয়, তবে আমরা অবশ্যই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।’
উল্লেখ, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় দ্বিতীয় দায়েরের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা ওমানে হওয়া প্রাথমিক আলোচনার ধারাবাহিকতা।
ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা অস্ত্র তৈরির পর্যায়ের খুব কাছাকাছি। তাখত-রাভানচি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ইরান এই সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে আলোচনা করতে রাজি। তবে ৪০০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে তিনি এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার দাবি জানালেও, ইরান একে তাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে মনে করে।
ইসরায়েল ও আমেরিকার অন্যতম প্রধান দাবি হলো ইরানের মিসাইল কর্মসূচি বন্ধ করা। কিন্তু তাখত-রাভানচি এটি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘যখন আমরা আক্রান্ত হই, তখন এই মিসাইলগুলোই আমাদের রক্ষা করে। আমরা আমাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বিসর্জন দিতে পারি না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে আলোচনার কথা বললেও, অন্যদিকে প্রকাশ্যে ইরানের সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। রাভানচি এই দ্বিমুখী বার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ওমানের মাধ্যমে আসা ব্যক্তিগত বার্তায় ট্রাম্প আলোচনার কথা বললেও জনসমক্ষে তার বক্তব্য ভিন্ন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে ইরানি এই কূটনীতিক বলেন, ‘আরেকটি যুদ্ধ সবার জন্যই ভয়াবহ হবে। সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিশেষ করে যারা এই আগ্রাসন শুরু করবে।’
তিনি আরও জানান, ইরান যদি অস্তিত্বের সংকট অনুভব করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘ভিন্ন মাত্রার’ পালটা হামলা চালানো হবে।
তাখত-রাভানচি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুদ্ধের বিরুদ্ধে একমত। তবে তিনি ইসরায়েলকে এই আলোচনার পথ বাধাগ্রস্ত করার জন্য অভিযুক্ত করেন। গত বছরের জুনে ইসরায়েলি হামলার কারণে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এবার তারা অত্যন্ত সতর্ক।