Saturday 17 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১০
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অঞ্চলে ভারত-বাংলাদেশের সুসম্পর্ক দেখতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নতুন নির্বাচিত সরকারকে চীনা সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভারত-ঘনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে বাংলাদেশে ভারতের প্রভাব কিছুটা কমেছে, যার সুযোগ নিচ্ছে চীন। এরই মধ্যে চীন বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় একটি ড্রোন কারখানা তৈরির চুক্তি করেছে এবং পাকিস্তান থেকে যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তির ঝুঁকি সম্পর্কে ঢাকাকে সজাগ করতে চায় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে চীনা সরঞ্জামের পরিবর্তে মার্কিন বা পশ্চিমা মিত্রদের প্রযুক্তি ব্যবহার করুক।

এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপ তারা বরদাশত করবে না।

ট্রাম্প প্রশাসন ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে পুনরায় সুসম্পর্ক দেখতে আগ্রহী, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি বলে মনে করেন রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত জানান, মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, তবে তারা পরবর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশের নিশ্চয়তা চায়। বর্তমানে শেভরন ছাড়া বড় কোনো মার্কিন কোম্পানির উপস্থিতি বাংলাদেশে তেমন নেই। এমনকি স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের মতো বৈশ্বিক চেইন শপও এখানে অনুপস্থিত। উচ্চ কর এবং লভ্যাংশ স্থানান্তরের জটিলতা দূর করা গেলে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় সহায়তাকারী দেশ। জাতিসংঘের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ বাংলাদেশে ব্যয় হবে।

মার্কিন একা এই বিপুল ব্যয়ভার বহন করা কঠিন, তাই অন্যান্য আন্তর্জাতিক দাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সবশেষে তিনি জানান, বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকেই নির্বাচিত করুক না কেন, ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গেই কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর