১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো অধিকৃত পশ্চিম তীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং সেখানে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনের জমি কেনা সহজ করার লক্ষ্যে নতুন কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি রাইটস গ্রুপগুলো বলছে, ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করার ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের দখল ও বাস্তুচ্যুতিকে সহজ করবে।
আল জাজিরায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অতি-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের মন্ত্রিসভায় জমা দেওয়া পদক্ষেপগুলো অনুমোদন করা হয়।
ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের এ পদক্ষেপকে ‘কার্যত একীভূতকরণ’ বলে উল্লেখ করেছে।
প্রায় ছয় দশক পর ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া – যা ভূমির মালিকানা নিষ্পত্তি নামেও পরিচিত তা পুনর্বহাল করা হয়েছে।
পশ্চিম তীর সেই অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। অঞ্চলটির বড় অংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিত আকারে শাসনকাজ পরিচালনা করে।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বিমকম এক বিবৃতিতে বলেছে, যদিও ইসরায়েল সামরিক আদেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জমি বাজেয়াপ্তকরণ বৃদ্ধি করেছে, ২০২৫ সালে এই কার্যকলাপ রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছ। নতুন পদক্ষেপটি ইসরায়েল এর জন্য এমন একটি আইনি পথ তৈরি করেছে যা ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বর্ণবাদ শাসনকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ফিলিস্তিনি জমি দখলকে সহজ করবে।
বিমকমের প্রধান গবেষক মাইকেল ব্রেয়ার আল জাজিরাকে বলেন, ফিলিস্তিনি জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ যাদের জমি কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি, অথবা যারা মালিকানা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হবে তাদের কাছে ভূমি নিবন্ধন সহজ হবে না।
পশ্চিম তীর সেই অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে। অঞ্চলটির বড় অংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পশ্চিমা সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সীমিত আকারে শাসনকাজ পরিচালনা করে।
ইসরায়েলের উগ্রপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করেন।
চলতি বছরের শেষ দিকে নেতানিয়াহুকে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। ইসরায়েলি বসতি এলাকায় তার নেতৃত্বাধীন জোটের বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। জোটের অনেক সদস্যই পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার পক্ষে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা এই ভূমির সঙ্গে কথিত বাইবেলীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা দাবি করে থাকে ইসরায়েল।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রোববার ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। ১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম এ বিতর্কিত প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর এক সপ্তাহ আগেও পশ্চিম তীরে বেশ কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছিল ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। ওই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, ‘আমরা বসতি স্থাপনের বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছি এবং আমাদের ভূমির প্রতিটি অংশে আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করছি।’
জমি নিবন্ধনের নতুন পদক্ষেপটিকে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অবৈধ জমি নিবন্ধন প্রক্রিয়ার যথাযথ জবাব’ বলে এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, জমি নিবন্ধন একটি অত্যাবশ্যক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই পদক্ষেপ স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। তারা মনে করে, এ পদক্ষেপটি আসলে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার চেষ্টা। তাদের মতে, অবৈধ বসতি স্থাপনের মাধ্যমে দখল আরও স্থায়ী করতে ইসরায়েলের নেওয়া পরিকল্পনার সূচনাপর্ব এটি।
ইসরায়েলি বসতি–বিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা পিস নাউ বলেছে, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের কারণে পশ্চিম তীরের প্রায় অর্ধেক এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিরা জমি হারাতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছেন। তবে তার প্রশাসন ইসরায়েলের দ্রুত বসতি নির্মাণ ঠেকাতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে এক পরামর্শমূলক মতামতে বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখল ও বসতি আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং যত দ্রুত সম্ভব তা বন্ধ করা উচিত। তবে ইসরায়েল এই মত মেনে নেয়নি।