মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রমজান মাসের শুরু নিয়ে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ। ভৌগোলিক অবস্থান এবং চাঁদ দেখার পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে দুই ধরনের পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র রমজানের প্রথম দিন হতে পারে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অথবা বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)। ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী, ২৯ শাবান (১৭ ফেব্রুয়ারি) সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে রমজানের নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা হবে। যদি ওই সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যায়, তবে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হবে। অন্যথায় শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজান গণনা শুরু হবে। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট চাঁদ দেখার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের পূর্বাভাস ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিযুক্তরাজ্যের ‘ক্রিসেন্ট মুন ওয়াচ’র তথ্যমতে, ১৭ ফেব্রুয়ারি মক্কা সময় দুপুর ৩টা ১ মিনিটে নতুন চাঁদ দেখা যাবে। তবে ওই সন্ধ্যায় মক্কায় সূর্যাস্তের মাত্র ৩ মিনিট পর চাঁদ ডুবে যাবে। চাঁদের বয়স অত্যন্ত কম হওয়ায় বিশ্বের কোথাও ওইদিন খালি চোখে চাঁদ দেখার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে অধিকাংশ দেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদটি প্রায় ২৬ ঘণ্টা বয়সী হবে এবং আকাশে অনেক উপরে থাকবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য দেখা সহজ হবে।
বাংলাদেশে পবিত্র রমজান কবে শুরু?
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরুর পূর্বাভাস রয়েছে।
চাঁদ দেখার ভিন্নতা কেন?
রমজানের শুরুর তারিখ নিয়ে এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো পদ্ধতিগত ভিন্নতা। উত্তর আমেরিকার মতো কিছু সংস্থা গাণিতিক বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব অনুসরণ করে। অন্যদিকে, সৌদি আরব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সরাসরি খালি চোখে চাঁদ দেখার ঐতিহ্যের ওপর নির্ভর করে।