Sunday 01 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নেতানিয়াহুর ছকে ট্রাম্পের আক্রমণ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের নেপথ্যে কার স্বার্থ?

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
১ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৭ | আপডেট: ১ মার্চ ২০২৬ ১৯:০৭

ছবি: সংগৃহীত

গত মে মাসে মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় আঞ্চলিক নেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক নতুন নীতি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অন্য কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা জোর করে জাতি-গঠনের পথে হাঁটবে না তার প্রশাসন। পূর্বসূরিদের কড়া সমালোচনা করে তিনি তখন বলেছিলেন, তথাকথিত জাতি-গঠনকারীরা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করেছে।

কিন্তু এক বছর পার না হতেই ট্রাম্পের সেই অবস্থান বদলে গেছে। ইরানের ওপর পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়ে তিনি এখন দেশটিতে ‘স্বাধীনতা’ আনার কথা বলছেন; যে ভাষা সাধারণত কট্টরপন্থী নব্য-রক্ষণশীলরা ব্যবহার করেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ বা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিজ্ঞাপন

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেশ কয়েকজন ইরান বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন, ট্রাম্প আসলে এমন একটি যুদ্ধ পরিচালনা করছেন যা মূলত ইসরায়েল এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

ওয়াশিংটনের ‘সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি’র সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তজাভি বলেন, ‘এটি আরও একটি যুদ্ধ যা ইসরায়েলের চাপে যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছে। গত দুই দশক ধরে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর হামলার জন্য প্ররোচিত করে আসছিল, শেষ পর্যন্ত তারা তা সফলভাবে করাতে পারল।’

তিনি আরও বলেন, যে ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ দাবি করতেন, তার মুখে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ভাষা অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত ২০ বছর ধরে দাবি করে আসছেন যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যদিও ইরান বরাবরই তা অস্বীকার করেছে এবং খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে তেহরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিকে সমরাস্ত্রে রূপান্তর করছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের মূল সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালানোর পর নেতানিয়াহু নতুন এক ‘হুমকি’র কথা সামনে আনেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে সক্ষম। যদিও তেহরান এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে এবং এর পক্ষে কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ নেই, তবুও ট্রাম্প তার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে একই দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন।

আমেরিকান জনমত ও যুদ্ধের বাস্তবতা

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ট্রাম্পের নিজস্ব ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’ অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে পশ্চিম গোলার্ধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল। এমনকি মার্কিন জনমতও এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২১ শতাংশ আমেরিকান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমর্থন করেন।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য স্বীকার করেছেন, মার্কিন সেনারা হতাহত হতে পারে, তবে তিনি একে ‘ভবিষ্যতের জন্য এক মহৎ মিশন’ বলে অভিহিত করেছেন।

কূটনীতির পথে বাধা?

অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই যুদ্ধ ওমানের মধ্যস্থতায় চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সফল কূটনৈতিক আলোচনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদি বলেন, ‘নেতানিয়াহুর প্রধান লক্ষ্যই ছিল কূটনৈতিক সমাধান বন্ধ করা। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন ট্রাম্প হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছে যাবেন। আলোচনার মাঝপথে এই যুদ্ধ শুরু হওয়াটা নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় বিজয়।’

এমনকি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অনুসারীরাও এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। জনপ্রিয় উপস্থাপক টাকার কার্লসন এক আলোচনায় মন্তব্য করেন, ইরান থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে থাকা আমেরিকার সাধারণ মানুষের জন্য ইরান কোনো সরাসরি হুমকি নয়।
কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তলাইবও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘ট্রাম্প আমেরিকান জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলি সরকারের সহিংস কল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।’

সূত্র: আল জাজিরা

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর