ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর লেবানন সরকার দেশটিতে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
সোমবার (২ মার্চ) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের যুদ্ধে ইসরায়েলের হাতে হিজবুল্লাহর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর লেবাননের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যে এক নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর এই হামলা লেবাননের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছার অবমাননা। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ বা শান্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার কেবল রাষ্ট্রের হাতে।
প্রধানমন্ত্রী সালাম বলেন, ‘রাষ্ট্রের বৈধ কাঠামোর বাইরে থেকে পরিচালিত যেকোনো সামরিক তৎপরতা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’ তিনি হিজবুল্লাহর সমস্ত নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রমকে ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেন এবং গোষ্ঠীটিকে অবিলম্বে রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
২০০৮ সালে হিজবুল্লাহর নেটওয়ার্ক বন্ধের চেষ্টায় লেবাননে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তবে এবার রাষ্ট্র অনেক বেশি কঠোর অবস্থানে।
হিজবুল্লাহর ড্রোন ও রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলসহ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে। লেবানন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। হামলার আতঙ্কে সাধারণ মানুষ দলে দলে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছে, যার ফলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।