ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান হামলা বন্ধের একটি প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রস্তাবটি উথাপনের পর নাকচ করে দেয় প্রতিনিধি পরিষদ।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ চালানোর বিরোধিতা করে প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের পক্ষে রায় দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অধিকাংশ আইনপ্রণেতা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ২১৯ জন এবং পক্ষে ২১২ জন ভোট দেন। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ট্রাম্পের পক্ষ জয় লাভ করে। ফলে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। তবে দুজন রিপাবলিকান প্রস্তাবের পক্ষে এবং চারজন ডেমোক্র্যাট প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। অর্থাৎ তারা দলীয় সিদ্ধান্তের বিপরীতে ভোট দেন।
প্রস্তাবটির বিরোধীরা ডেমোক্র্যাটদের অভিযুক্ত করে বলেন, তারা কেবল ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে গিয়ে এই বিষয়টি সামনে এনেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান রিক ক্রফোর্ড বিতর্কের সময় বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, প্রেসিডেন্টের নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প না হলে আজ আমরা এখানে থাকতাম না।’
অন্যদিকে, প্রস্তাবের উদ্যোক্তারা জানান, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকার কথা। তা ফিরিয়ে আনতেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (৪ মার্চ) ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ করার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত দ্বিদলীয় প্রস্তাবটি ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধ ক্ষমতার প্রস্তাবটি দলীয়ভাবে ৫৩-৪৭ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। সিনেটের এ ব্যর্থতার কারণে ইরানে মার্কিন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনাও রয়েছেন। এই সংঘাতের ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রস্তাবের সমর্থকেরা মনে করেন, যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকলে ট্রাম্পকে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট করতে হতো, কেন এই যুদ্ধ এবং এর শেষ কোথায়। ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস বলেন, ‘এটি (ট্রাম্প) প্রশাসনের নিজের বেছে নেওয়া একটি যুদ্ধ। কোনো অনুমোদন, সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা সমাপ্তির পরিকল্পনা ছাড়াই এটি শুরু করা হয়েছে।’