ঢাকা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশি জ্বালানিবহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে ইরানকে অবহিত করবে। এতে ইরানের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের বাধা দেওয়া হবে না বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এর আগে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু রোববার (০৮ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘জ্বালানিবাহী বাংলাদেশের জাহাজ ছেড়ে দিতে ইরানকে অনুরোধ করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে আটকে পড়া তেলবাহী জাহাজগুলো দ্রুত দেশে আসতে পারবে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ দেশে এসেছে।’ তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশে কোনও সংকট নেই।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুটি জাহাজের মধ্যে একটি এরইমধ্যে পৌঁছেছে এবং অন্যটি আউটার অ্যাঙ্করেজে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে সেখান থেকে জ্বালানি খালাস শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী ১২ মার্চ আরও একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।’
এর আগে গত ৭ মার্চ বিদেশি গণমাধ্যমগুলোতে জানানো হয়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরান। তবে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল এরইমধ্যে কমে গেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রণালি দিয়ে যেকোনও দেশের জাহাজ চলাচলে ইরান বাধা দেবে না।