ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের শুরু করা হামলার পালটা জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ করছে তেহরান। ইরানের এই প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে পালিয়ে আসা মার্কিন সৈন্যরা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের বিভিন্ন শহর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ও হোটেলে আত্মগোপনে থাকছেন তারা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এর মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক আগ্রাসনে নিযুক্ত আমেরিকান সৈন্যদের জন্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হিসাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। তবে পরিস্থিতি আসলে ভিন্ন।
মোহাম্মদ নায়েনি বলেন, ‘মার্কিন ঘাঁটি থেকে পালিয়ে আসা আমেরিকান সৈন্যরা তাদের ব্যাকপ্যাক নিয়ে এই অঞ্চলের শহরগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং কেউ কেউ স্থানীয় হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।’
আইআরজিসি জেনারেল আরও বলেন, ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে চারটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার পর মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানের জলসীমা থেকে নিজেদের আরও ১,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি সৈন্যরা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের বিশাল আক্রমণ থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, নিজেদের রক্ষা করার জন্য অধিকৃত অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে লুকিয়ে আছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই বলেছে, আবাসিক এলাকায় আশ্রয় বা আত্মগোপনে থাকা মার্কিন সেনাদের অবস্থান জানাতে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা।
আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার এক বিবৃতিতে বলা হয়, হাজার হাজার মার্কিন সেনা হোটেল ও ব্যক্তিগত আবাসনে বা বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। ওয়াশিংটন আমাদের আরব ভাইদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমরা বাধ্য হচ্ছি আমেরিকানদের শনাক্ত করতে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে। তাই হোটেলগুলোতে তাদের আশ্রয় না দেওয়াই ভালো এবং তাদের অবস্থান থেকে অন্যদের দূরে থাকা উচিত। মার্কিন সন্ত্রাসীদের লুকিয়ে থাকার জায়গাগুলো সঠিকভাবে জানানো আপনার ইমানি দায়িত্ব। সেই তথ্য আমাদের কাছে টেলিগ্রামে পাঠিয়ে দিন।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভিন্ন দাবি সত্ত্বেও ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় শত্রু পক্ষের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করেছে যে ইরানের হামলায় সাতজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
অধিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্যের দামেও বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন, সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহগুলোতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।