ইরান যুদ্ধের প্রভাব খুব শিগগিরই সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপর পড়তে শুরু করবে। বিশেষ করে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা তছনছ হয়ে গেছে। সার, ধাতু, গ্যাস থেকে শুরু করে জ্বালানি—সবকিছুর সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি ব্যারেল তেল এবং অন্যান্য পণ্য পরিবাহিত হয়।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিএনবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য বলা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীর এই উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ নেই। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষকে চাপে রাখতে এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ শুক্রবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টি সামাল দিচ্ছি, চিন্তার কিছু নেই।’
তবে লজিস্টিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তেলের দাম বাড়ায় খরচ বাড়ছে এবং পণ্যের জাহাজে তোলায় অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
খুচরা বাজারে প্রভাব
কোরসাইট রিসার্চের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্স কান বলেন, বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে তার সহনক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে।
মুদি পণ্যের দাম: মুদি দোকানের খাবারের দাম সবার আগে বাড়তে পারে, কারণ খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ ব্যবস্থা খুব একটা নমনীয় নয়। তবে পোশাকের মতো পণ্যের উৎপাদন সাময়িকভাবে কমিয়ে দিয়ে পরে তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বিলাসবহুল পণ্য বনাম নিত্যপণ্য: বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির চাপে সাধারণ ভোক্তারা শৌখিন বা বিলাসবহুল জিনিস কেনা কমিয়ে দেবেন। ফলে এই ধরনের বিক্রেতারা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।
জ্বালানি তেলের দামের প্রভাব
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মানুষের যাতায়াত খরচ বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দেয়। তবে ওয়ালমার্ট বা ক্রোঙ্গার এর মতো ‘ভ্যালু রিটেইলার’ বা সস্তা দোকানগুলোর চাহিদা বাড়তে পারে, কারণ মানুষ তখন কম দামে পণ্য খুঁজবে।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব
সব মিলিয়ে তেলের আকাশচুম্বী দাম গৃহস্থালি বাজেটে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কেবল মুদি পণ্যের দামই বাড়াবে না, বরং খুচরা বাজারের সামগ্রিক চিত্র বদলে দেবে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই অনিশ্চয়তা শেষ পর্যন্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।