Saturday 14 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এক শর্তে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে দেবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:০৮ | আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩২

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন এক শর্ত আরোপের কথা ভাবছে ইরান।

শনিবার (১৪ মার্চ) ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই কর্মকর্তা বলেছেন, যদি তেলের কার্গো বা লেনদেন চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এ সম্পন্ন করা হয়, তবেই নির্দিষ্ট সংখ্যক ট্যাংকারকে এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে তেহরান।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে ইরান এই কৌশলগত জলপথে ট্যাংকার চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। মূলত বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার মার্কিন ডলারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ইরান এই প্রথা ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সাধারণত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের লেনদেন মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হলেও বর্তমানে কেবল পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার তেলের কারবার রুবল বা ইউয়ানে চলে। ইরান যদি সফলভাবে তেলের বাণিজ্যে ইউয়ান চালু করতে পারে, তবে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যে আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধানিষেধ জারি হওয়ার ফলে মানবিক সহায়তার কাজে ‘বিরাট প্রভাব’ পড়বে বলে শুক্রবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবিক বিষয়-সংক্রান্ত আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেন, এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে গেলে তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোতে খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করা যেমন কঠিন হয়ে পড়বে, তেমনই বাড়বে এসবের পরিবহন খরচ।

জাতিসংঘের মতে, এই জলপথটি কেবল জ্বালানি তেলের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে প্রণালীটি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যদি ইরান পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা প্রদান অব্যাহত রাখে, তাহলে তাদের তেল অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে খারগ দ্বীপের সমস্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রিত হয় এই খারগ দ্বীপ থেকে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর