মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলেও যুক্তরাজ্য কোনো বড় ধরনের বা ‘বৃহত্তর’ যুদ্ধে জড়াবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। অন্যদিকে জার্মানি ও গ্রিসও এই যুদ্ধে জাড়াবে না বলে জানিয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাউনিং স্ট্রিটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কিয়ার স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্য আত্মরক্ষায় প্রস্তুত, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেখানে সামরিক জাহাজ ও মাইন-সন্ধানী ড্রোন পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ব্রিটিশ সরকার।
তিনি জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় দেশ এবং উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যদিও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রপথ সুরক্ষিত রাখাকে একটি ‘কঠিন চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এ সময় জ্বালানি বা নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত দাম নিলে সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্টারমার।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও আল জাজিরা-র তথ্যমতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ পাঠানোর জন্য মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও ইউরোপ থেকে আশানুরূপ সাড়া মিলছে না।
জার্মান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে ন্যাটোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং জার্মানি এতে অংশ নেবে না। এমনকি সামরিক উপায়ে সমুদ্রপথ খোলা রাখার উদ্যোগেও তারা শামিল হবে না।
গ্রিসের সরকারি মুখপাত্র পাভলোস মারিনাকিস জানিয়েছেন, তাদের সেনাবাহিনী বা নৌবাহিনী এই অভিযানে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা রাখছে না।
পুরো ইউরোপজুড়ে এখন প্রধান উদ্বেগ হলো জীবনযাত্রার ব্যয়। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।