ইরানের ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে এবার কঠোর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরান আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের তালিকায় থাকা স্থাপনাগুলো হলো- সৌদি আরবের স্যামরেফ (SAMREF) রিফাইনারি এবং জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র, কাতারের রাস লাফান রিফাইনারি এবং মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ইরানের বুশেহর প্রদেশের উপকূলে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ‘সাউথ পার্স’-এ হামলা চালায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।
ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আগুন ধরে গিয়েছিল, যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমোজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান দাবি করছে তারা কেবল মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে, কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বলে নিন্দা জানিয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রটি কাতারের ‘নর্থ ফিল্ড’-এরই একটি বর্ধিত অংশ। তিনি সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বুধবার সৌদি আরবের রিয়াদে আরব ও মুসলিম দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।