Thursday 19 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলা
জ্বালানি সংকটের তীব্র ঝুঁকিতে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৬ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ২৩:০৯

রাস লাফান শিল্প নগরীতে কাতারএনার্জির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র। ফাইল ছবি: রয়টার্স

কাতারের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনা রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সিএনএন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার এসব দেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির বড় অংশই আসে কাতার থেকে। দেশটির প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস রাস লাফানে প্রক্রিয়াজাত ও রফতানি করা হয়। ফলে এই স্থাপনায় হামলার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।

কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি পরিচালিত রাস লাফান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি হাব। এখানে গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও রফতানির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো রয়েছে। বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ কাতার থেকে রফতানি হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের এলএনজি আমদানির প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ কাতার থেকে সংগ্রহ করে। অন্যদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য বলছে, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি আসে কাতার থেকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এলএনজি মজুত খুবই সীমিত, যা সর্বোচ্চ এক থেকে দুই সপ্তাহ চলতে পারে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এ দুই দেশে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে রাস লাফান স্থাপনায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল কাতারএনার্জি। তবে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ক্ষয়ক্ষতির কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়বে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর