মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালান, তবে দেশটি উপসাগর জুড়ে জ্বালানি ও পানি অবকাঠামোতে হামলা চালাবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে ট্রাম্পের হামলা চালানোর হুমকির পর পালটা হুমকি দিল দেশটি।
সোমবার (২৩ মার্চ) রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।
পানীয় জলের জন্য লবণাক্ত পানি পরিশোধনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এই অঞ্চলে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দেশটি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাকারি বলেছেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা করে, তবে পূর্ববর্তী সতর্কবার্তা অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠীর মালিকানাধীন সব বিদ্যুৎ অবকাঠামো, সেইসঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি এবং পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
শনিবার (২১ মার্চ) গভীর রাতে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন যে, তেহরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে। এ হুমকির মধ্য দিয়ে তিনি সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেন।
পরিস্থিতি এখন এমন‘ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হবে।’এ পরিস্থিতিতে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পালটা হামলার আশঙ্কায় তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
কর্মকর্তাদের মতে, তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভারী বোমাবর্ষণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেলেও, তেহরান পালটা আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে।
রোববার (২২ মার্চ) রাতে তেল আবিবসহ উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন অংশ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিমান হামলার সময় সাইরেন বেজে ওঠে। ইরান থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করতে ইসরায়েল বিভিন্ন স্থানে সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সোমবার ভোরে জানিয়েছে, তারা তেহরানে অবস্থিত ইরানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকেন্দ্রে হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে সোমবার জানিয়েছে দেশটির সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় খোররামাবাদ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় বোমা হামলায় অন্তত একজন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উরমিয়ার একটি আবাসিক এলাকা বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি ভিডিওতে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের উদ্ধারকর্মীদের উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় ইরানের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। জেরুজালেম ও মধ্য ইসরায়েলসহ দক্ষিণ ইসরায়েলে একাধিক সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এসব এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানার খবরে কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে বিস্ফোরণের খবর। ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় ইরান ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ-বোমা ব্যবহার করেছে। এগুলো থেকে ছোট ছোট বহু বোমা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের অন্তত আটটি স্থানে এই ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরক পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের এই সতর্কবার্তাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত কমিয়ে আনার কথা বিবেচনা করতে পারে। যদিও মার্কিন মেরিন সেনা এবং ভারী যানগুলো ওই অঞ্চলের দিকেই যাচ্ছিল।