যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
সোমবার (২৩ মার্চ) বাঘাইয়ের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, ‘যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার অনুরোধ নিয়ে কিছু বন্ধু দেশের কাছ থেকে বার্তা পাওয়া গেছে।’
বাঘাই আরও জানান, এর জবাবে ইরান ‘তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যেকোনো হামলার ভয়াবহ পরিণতি’ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্থানীয় সময় আজ সোমবার দাবি করেন, ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথা হয়েছে। ইরানই প্রথমে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছিল।
ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের পর সাংবাদিকেরও একই কথা জানান।
ফ্লোরিডার একটি বিমানবন্দরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে এবং দুই পক্ষ ‘প্রধান প্রধান বিষয়ে একমত’ হতে পেরেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প জানান, রোববার হওয়া আলোচনা সোমবারও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বেশ জোরালো আলোচনা হয়েছে। দেখা যাক এগুলো কোন দিকে নিয়ে যায়। আমি বলব, আমাদের মধ্যে প্রধান প্রধান বিষয়ে ঐকমত্যের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমনকি প্রায় সব বিষয়ে আমরা একমত হতে পেরেছি।’
ট্রাম্প যোগ করেন, ‘তারা (ইরান) একটি চুক্তি করতে খুব আগ্রহী। আমরাও একটি চুক্তি করতে চাই। আজ সম্ভবত ফোনের মাধ্যমে আমাদের কথা হবে।’
ট্রাম্প জানান, তাঁর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার এই আলোচনা চালাচ্ছেন।
ইরানের ঠিক কার সঙ্গে কথা হচ্ছে, তাঁর নাম উল্লেখ না করলেও ট্রাম্প জানান, এই আলোচনায় ইরানের একজন ‘শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত নেতা’ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তবে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে তিনি সতর্ক অবস্থানও তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, “চুক্তি হবে কি না, আমি তার নিশ্চয়তা দিতে পারি না। তবে যদি হয়, তা ইরান ও পুরো অঞ্চলের জন্য একটি ভালো সূচনা হবে।”
একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা অব্যাহত রাখবে—“আমরা তখন শুধু বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাব।”