ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াই চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডের মুখপাত্র আলী আবদুল্লাহি আলিয়াবাদী বলেছেন, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় গর্বিত, বিজয়ী ও অটল। এই পথ পূর্ণ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।’
তবে ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনায় ছাড় না দেওয়ার বার্তা দিতেই এমন বক্তব্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প শান্তি আলোচনার দাবি করলেও ইরানের বিভিন্ন শহরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতভর রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তাব্রিজ, ইস্পাহান ও কারাজ শহরেও হামলা চালানো হয়। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুটি গ্যাস স্থাপনা ও একটি পাইপলাইনে আঘাত হানে এসব হামলা।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ইসফাহানের কাভেহ স্ট্রিটে গ্যাস প্রশাসনিক ভবন ও গ্যাস চাপ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খোররামশাহর বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি থেকে ৫ দিনের বিরতি ঘোষণা করেছিলেন।
একদিকে হামলা চললেও অন্যদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, মিসর, পাকিস্তান ও ওমানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আনদ্রাবি আল-জাজিরাকে বলেছেন, যদি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ চায়, তাহলে ইসলামাবাদ সব সময়ই আলোচনার আয়োজন করতে ইচ্ছুক।
ইতোমধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে দুই দেশের আলোচকরা বৈঠকে বসতে পারেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে গত শনিবার (২১ মার্চ) ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এই সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।এই সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় শেষ হতে চলছিল। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল ট্রাম্প।