৪ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে তা হবে তাদের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী। বুধবার (২৫ মার্চ) প্রেস টিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক-নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রস্তাবটির বিস্তারিত সম্পর্কে অবগত ওই কর্মকর্তা প্রেস টিভিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ শেষের সময় নির্ধারণ করতে দেবে না ইরান।
তিনি বলেন, ‘ইরান যখন সিদ্ধান্ত নেবে এবং যখন তার নিজস্ব শর্ত পূরণ হবে, তখনই যুদ্ধ শেষ করবে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরান তার প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখবে এবং শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শত্রুকে ‘ভারি আঘাত’ হানতে থাকবে।
ওই কর্মকর্তার মতে, ওয়াশিংটন বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আলোচনা চালানোর চেষ্টা করছে এবং এমন প্রস্তাব দিচ্ছে, যা তেহরানের দৃষ্টিতে ‘অযৌক্তিক’ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার পরাজয়ের বাস্তবতাকে আড়াল করার চেষ্টা মাত্র। তিনি ২০২৫ সালের বসন্ত ও শীতকালে অনুষ্ঠিত আগের দুই দফা আলোচনার সঙ্গে এর তুলনা টেনে বলেন, সেগুলো ছিল প্রতারণামূলক।
তিনি বলেন, সে সময়ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার কোনও সদিচ্ছা ছিল না এবং পরবর্তীতে ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছিল তারা।
তাই, এক বন্ধুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবটিকেও তেহরান উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুদ্ধ অবসানে ইরানের ৫ শর্ত
এই কর্মকর্তা জানান, পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ইরান যুদ্ধ শেষ করতে সম্মত হবে। শর্তগুলো হলো-
- শত্রুপক্ষের ‘আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা’ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
- ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না—এমন কার্যকর নিশ্চয়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
- যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
- পুরো অঞ্চলে সব ফ্রন্টে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
- হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে, যা অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি পালনের নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা শুরুর কয়েক দিন আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় দেওয়া তেহরানের সব দাবির সঙ্গে এসব শর্ত যুক্ত হবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া হলেই কেবল যুদ্ধবিরতি সম্ভব বলে ইরান সব মধ্যস্থতাকারীকে জানিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এর আগে কোনও আলোচনা হবে না। যুদ্ধের সমাপ্তি তখনই হবে, যখন ইরান তা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেবে—ট্রাম্প যেমনটি কল্পনা করেন, তেমন নয়।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এই উসকানিমূলক ও অবৈধ যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।