যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরান এখন একটি চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহষ্পতিবার (২৬ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ঠিকই, কিন্তু সংঘাত নিরসনে কোনো আলোচনায় বসার ইচ্ছা তাদের নেই।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, এর অর্থনৈতিক ও মানবিক সংকটও তত বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানি পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন এক সময়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে এসব পালটাপালটি বক্তব্য এল।
আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংলাপ বা আলোচনা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে আমাদের কাছে আসা বার্তার উত্তর দেওয়া কিংবা নিজেদের অবস্থান জানানোকে সংলাপ বা আলোচনা বলা যায় না।’
এর কিছুক্ষণ পরই ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের নেতারা প্রকৃতপক্ষে আলোচনা করছেন এবং তারা একটি চুক্তি করতে খুবই মরিয়া। কিন্তু তারা সেটা বলতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ নিজ দেশের মানুষ তাদের মেরে ফেলতে পারে। আবার আমাদের হাতে মারা পড়ার ভয়ও তাদের আছে।’
অবশ্য ট্রাম্প এটা স্পষ্ট করেননি যে ইরানে কার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও রয়েছেন। হামলার জবাবে ইরানও ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধের প্রথম দিনই ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার জায়গায় দায়িত্ব নেন ছেলে মোজতবা খামেনি। তিনিও হামলায় আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি।