Thursday 26 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৬ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫০

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাক।

ইরান সরকার জানিয়েছে, ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ বা বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশগুলোর জাহাজ এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ থাকার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।’ তিনি জানান, অনেক দেশ তাদের জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত দেশগুলোর জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ভারতের জাহাজ ইতোমধ্যে এই পথে চলাচল করেছে। বাংলাদেশও এ তালিকায় রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

তবে আরাগচি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ যেসব দেশকে ইরান শত্রুপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে, তাদের জাহাজের জন্য এই প্রণালি বন্ধ থাকবে।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানগামী একটি কনটেইনার জাহাজকে ট্রানজিট অনুমতি না থাকায় মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেয় ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তেহরান, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

আন্তর্জাতিক শিপিং বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করলেও চলতি মাসে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, মার্চের প্রথম ২৫ দিনে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এ পথে চলাচল করেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে এই নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব সরাসরি পড়বে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর