Friday 27 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হরমুজ সংকটের মধ্যে তেল বিক্রিতে ইরানের রেকর্ড, দৈনিক বিক্রি ১৪ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৩ | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২৬ ২০:৪৫

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝোউশান এলাকায় একটি টার্মিনালে ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল খালাস করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি সংকটের মধ্যেও তেল বিক্রি থেকে রেকর্ড আয় বেড়েছে ইরানের। যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও দেশটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪ কোটি ডলারের তেল বিক্রি করছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারা অন্যতম বড় রফতানিকারক দেশ হওয়ায় বিশ্ববাজারে ইরানি তেলের চাহিদা ও দাম উভয়ই বেড়েছে। ফলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তেহরান অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রধান ক্রেতা চীনের কাছে এখন তুলনামূলক কম ছাড়ে তেল বিক্রি করছে ইরান। গত ১০ মাসের মধ্যে এই ছাড়ের পরিমাণ সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় মুনাফা আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পরও ইরানের তেল রফতানি দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, খার্গ দ্বীপের টার্মিনালে নিয়মিত বড় তেলবাহী ট্যাংকার ভিড়ছে এবং পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে রফতানি অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদক দেশ ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা সৌদি আরব রফতানিতে বাধার মুখে পড়লেও ইরান বিকল্প অবকাঠামো ব্যবহার করে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে জাস্ক টার্মিনাল ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির বাইরে থেকেও তেল রফতানির সুবিধা পাচ্ছে দেশটি।

জ্বালানি বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ট্যাংকারট্র্যাকারস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে ইরান প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষক রিচার্ড নেফিউ মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান বাস্তবে ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছে না, বরং কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাও তৈরি হচ্ছে।

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এখন পর্যন্ত বড় ধরনের হামলা থেকে বেঁচে গেলেও কাতার, সৌদি ও আমিরাতের তেল-গ্যাসক্ষেত্রগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র কাতারের রাস লাফান স্থাপনায় বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত আয় ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সামরিক সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত গত সপ্তাহে দক্ষিণ পারস গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পর ইরানও পালটা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি দিলেও পরে আলোচনার কথা বলে সুর নরম করেছেন। তবে ইরান কোনো ধরনের আলোচনার খবর অস্বীকার করে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর