Sunday 29 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরান যুদ্ধের এক মাস
ট্রাম্পের সামনে এখন কেবলই কঠিন বিকল্প

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
২৯ মার্চ ২০২৬ ২৩:৫৮ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ০০:০১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গেটি ইমেজেস

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক চরম রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটের মুখোমুখি। একদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং অন্যদিকে দেশে নিজের জনপ্রিয়তায় ধস—এই দুই প্রতিকূল পরিস্থিতির চাপে ট্রাম্পের সামনে এখন সহজ কোনো পথ খোলা নেই।

রোববার (২৯ মার্চ) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছেন যেখানে তাকে দুটি কঠিন পথের একটি বেছে নিতে হবে। হয় তাকে একটি ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বা অসম্পূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ থেকে দ্রুত পিছু হঠতে হবে, না হয় সামরিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিতে হবে। সমালোচকরা এই যুদ্ধকে ‘নিজের ডেকে আনা বিপদ’ বলে অভিহিত করছেন, যা ইতিমধ্যে ইতিহাসের ভয়াবহতম বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

গত এক সপ্তাহে ব্যাপক কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান চললেও ইরান এখনো নমনীয় হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখায়নি। উল্টো তারা পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহ পথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

হোয়াইট হাউজের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন, তিনি কোনো ‘অন্তহীন যুদ্ধে’ জড়াতে চান না। তিনি জনসমক্ষে এই যুদ্ধের সময়সীমা ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং সেই লক্ষ্যেই একটি সম্মানজনক প্রস্থান পথ খুঁজছেন। তবে বর্তমান যুদ্ধপরিস্থিতিতে এই সময়সীমা রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস করতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি চূড়ান্ত ও বড় ধরনের বিমান হামলা চালাতে পারে। এরপর ট্রাম্প যুদ্ধের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে বলে বিজয় ঘোষণা করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ যদি পুরোপুরি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া না হয়, তবে এই বিজয়ের দাবি হবে অন্তঃসারশূন্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে এই অঞ্চলে আরও হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করছেন এবং প্রয়োজনে পদাতিক বাহিনী নামানোর হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু মার্কিন ভোটারদের মধ্যে এই যুদ্ধের জনপ্রিয়তা ক্রমেই কমছে। ফলে ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি সেনা পাঠানোর যেকোনো সিদ্ধান্ত আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর