ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি সচল না হলেও তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি জাহাজ চলাচলের জন্য এই জলপথ উন্মুক্ত না করে তবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘ধুলায় মিশিয়ে’ দেওয়া হবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি তার অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী এই ‘চোকপয়েন্ট’ বা সরু জলপথটি পুনরায় সচল করার মতো ‘জটিল অপারেশন’ তিনি আপাতত ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখতে চান। এই জলপথটি জোরপূর্বক উন্মুক্ত করতে গেলে যুদ্ধ তার নির্ধারিত ৪-৬ সপ্তাহের সময়সীমা ছাড়িয়ে যাবে।
ট্রাম্পের বর্তমান লক্ষ্য হলো—ইরানের নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ধ্বংস করার মাধ্যমে তাদের সামরিক সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়া। এরপর কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে মুক্ত বাণিজ্যে ফিরে আসতে বাধ্য করা। যদি এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে ওয়াশিংটন ইউরোপীয় এবং উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে যাতে তারা নিজ উদ্যোগে হরমুজ প্রণালী খোলার নেতৃত্ব দেয়।
বৈশ্বিক জ্বালানি ও ভারতের ওপর প্রভাব
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের ২৫ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে ভারতের জন্য এটি লাইফলাইন, কারণ দেশটির প্রয়োজনীয় জ্বালানির ৮০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে কন্টেইনার ও বাল্ক কার্গোসহ প্রতিদিন কয়েকশ জাহাজের চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরমাণু আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং ইরানের পুনরায় পারমাণবিক কার্যক্রম শুরুর অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। এই বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যু হয়েছে। পালটা জবাবে ইরানও দুবাই, কুয়েত, আবুধাবি, কাতার ও বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলগুলোতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে। হামলায় ওই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
এদিকে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সোমবার জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের বিশাল ব্যয়ভার আরব দেশগুলোর কাছ থেকে আদায়ের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ আগ্রহী। লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এই ধারণাটি নিয়ে ভাবছেন এবং খুব শিগগিরই আপনারা এ বিষয়ে তার কাছ থেকে সরাসরি আরও বিস্তারিত শুনতে পাবেন।’