Friday 03 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কার্পেট বোমা হামলা
ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে পাঠানো’ যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি—নাকি কৌশলগত চাপ?

আবু সাঈদ সজল নিউজরুম এডিটর
৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৯

১৯৪৫ সালে মিত্রবাহিনীর কার্পেট বোমা হামলায় জার্মানির ওয়েসেল ৯৭ শতাংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়া ছবির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া’ নিয়ে সাম্প্রতিক হুমকি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, তিনি দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেবেন’। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে এই বক্তব্যকে আরও জোরালো করেন। তিনি লিখেন- ‘Back to the Stone Age.’(প্রস্তর যুগে ফিরে যাও)।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং কৌশলগত চাপ সৃষ্টির একটি বহুল ব্যবহৃত সামরিক ভাষা।

বিজ্ঞাপন

‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া’ মানে কী?

সামরিক পরিভাষায় কোনো দেশকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া’ বলতে সাধারণত কার্পেট বোমা হামলা বোঝানো হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করে অবকাঠামো, শিল্প, যোগাযোগব্যবস্থা-সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়, যেন দেশটি (আদিম অবস্থায় নামিয়ে আনা হয়) কার্যত দেশটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে অচল হয়ে পড়ে। এ ধরনের হামলা শুধু সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং বেসামরিক অবকাঠামোকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ট্রাম্পের হুমকি নাকি দরকষাকষির কৌশল?

ইরানকে লক্ষ্য করে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের (ইরানের) ওপর  অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানব, আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব, যেখানে তাদের থাকার কথা।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনার মাধ্যমেও পরিস্থিতির সমাধান সম্ভব। এ ধরনের দ্বৈত বার্তা-একদিকে কঠোর হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার ইঙ্গিত-আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রায়ই চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের হুমকি নতুন নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশলের অংশ, যেখানে বিভিন্ন দেশে কার্পেট বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলার পর ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। পরে তেহরানও পালটা জবাবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল-স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওষুধ কারখানাসহ হাজারো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনে কী বলা আছে?

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল সিকিউরিটি অধ্যাপক জানিনা ডিল আল জাজিরাকে বলেন, যদি ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া’ হুমকি আধুনিক সমাজের অবকাঠামো ধ্বংসের ইঙ্গিত দেয়, তবে তা অবৈধ হবে, কারণ এতে বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আধুনিক সমাজের অবকাঠামোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, বেসামরিক শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। এগুলোকে নির্বিচারে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’

ডিল আরও বলেন, ‌‌‌‘এই বক্তব্যটি (প্রস্তুর যুগে ফেরানোর বক্তব্য) বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এতে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের সরকার নয়, বরং ইরানের জনগণ ও সমাজের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করছে।’

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো নিষিদ্ধ।

‘প্রস্তর যুগে ফেরত পাঠানো’ ভাষার শুরু কোথায়?

‘প্রস্তর যুগে বোমা মেরে ফেরত পাঠানো’ কথাটি জনপ্রিয় হয় মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা কার্টিস লেমে’র মাধ্যমে। তিনি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত তার বই লেমের সাথে মিশন-এ উত্তর ভিয়েতনামকে লক্ষ্য করে এই ধরনের হুমকির কথা বলেছিলেন।

তিনি লিখেছিলেন: “We’re going to bomb them back into the Stone Age.” (আমরা বোমা মেরে ওদেরকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব।)

তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি শহরগুলোতে কার্পেট বোমা হামলার নেতৃত্বে দেন। ওই হামলায় ২ লাখ ৪০ হাজার থেকে ৯ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল।

ইতিহাসে কার্পেট বোমা হামলার নজির

ভিয়েতনাম যুদ্ধ: ভিয়েতনাম যুদ্ধের সূত্রপাত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের ইন্দোচীন পুনর্দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে। হো চি মিনের নেতৃত্বে ভিয়েত মিন বাহিনী ফরাসিদের পরাজিত করে। এরপর ভিয়েতনামকে ১৭তম সমান্তরালে ভাগ করা হয়। এর উত্তরে কমিউনিস্ট সরকার এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকার গঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক বোমা হামলা চালায়। ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন উত্তর ভিয়েতনামের হ্যানয় ও হাইফং শহরে ব্যাপক বোমা হামলার নির্দেশ দেন। এটি ইতিহাসে “Christmas bombings” (ক্রিসমাস বোমা হামলা) নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ নিহত ও আহত হয়।

প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধ: ১৯৯০ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত আক্রমণ করেন। এর পর ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জোটবাহিনী উপসাগরীয় যুদ্ধ শুরু করে। এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস বেকার জেনেভায় ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারিক আজিজকে সতর্ক করেন, কুয়েত থেকে না সরে গেলে ইরাককে ‘বোমা মেরে প্রস্তর যুগের মতো ধ্বংস করা হবে’।

৯/১১-এর পর: যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মার্কিনিরা ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করে। পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফ পরে জানান, মার্কিন কর্মকর্তা রিচার্ড আর্মিটেজ তাকে হুমকি দিয়েছিলেন। তখন ওই হুমকিতে বলেছিলেন, তালেবানবিরোধী যুদ্ধে সহযোগিতা না করলে পাকিস্তানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’

জাপান-কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কার্পেট বোমা হামলা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের শহরসহ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বোমা হামলা চালায়। এছাড়া কোরিয়ান যুদ্ধ চলাকালে উত্তর কোরিয়ায় ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়। এতে দেশটির প্রায় সব শহর ধ্বংস করে দেয় বলে দাবি করা হয়। এই হামলায় উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস হয়ে যায়।

এছাড়া, ১৯৩৭ সালে স্পেনের গৃহযুদ্ধের সময় এল মাজুকোর যুদ্ধে কার্পেট বোমাবর্ষণের প্রথম প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। পাথুরে ঢালে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পদাতিক বাহিনীর বিরুদ্ধে, এবং আক্রমণকারী কনডর লিজিয়ন জানতে পারেন যে এই ধরনের ভূখণ্ডে কার্পেট বোমাবর্ষণ খুব একটা কার্যকর নয়।

১৯৩৮ সালের মার্চ মাসে, বার্সেলোনায় বোমা হামলায় ইতালীয় এবং জার্মান বিমান হামলায় ১৩০০ মানুষ নিহত এবং ২০০০ আহত হন। এটিকে কোনো শহরের প্রথম কার্পেট বোমাবর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তাছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই ধরনের বেশ কয়েকটি বোমা হামলার নজির স্থাপন করে। ১৯৩৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৪৩ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত চীনের যুদ্ধকালীন রাজধানী চংকিংয়ে জাপানি বোমা হামলায় ২৩ হাজার ৬০০ জন নিহত এবং ৩০ হাজারের বেশি আহত হয়।

মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে মিত্ররা

ইরান বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর একটি। দেশটিতে হাজার বছর আগে থেকেই খাল, সড়ক, সামরিক ব্যবস্থা, মুদ্রা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল এবং বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও দর্শনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্মই হয়নি। ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এই যুদ্ধের গতি বুঝে হরমুজ প্রণালি দখলে কিংবা ইরান যুদ্ধে  সম্মতি দেয়নি। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ চলমান থাকলে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কখনোই স্থিতিশীল হবে না বলে সতর্ক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এদিকে ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলে জানিয়েছে অস্ট্রিয়া।  অন্যদিকে ইরান যুদ্ধে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের কাছে সাহায্য চেয়েছে। তাদের প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে নিতে চেয়েছে। তবে পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ জানিয়েছেন, ইরানের হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাবে না তারা।

যা চাইছেন ট্রাম্প

কিন্তু ট্রাম্পের ওই হুমকির পর ইরানের বৃহত্তম দু’টি ইস্পাত কারখানায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে শতাব্দী প্রাচীন একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র পাস্তুর ইনস্টিটিউট অব ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রটি ১৯২০ সালে চালু হয়। অন্যদিকে রাজধানী তেহরান থেকে কারাজ শহরের পথে ‘মধ্যপ্রাচ্যের সর্বোচ্চ সেতু’ হিসেবে পরিচিত একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেছেন, ‘বেশি দেরি হওয়ার আগে’ ইরানের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে রাজী হওয়া। ট্রাম্প মূলত চাইছেন কিছু ধ্বংসজ্ঞ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে কিংবা যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে দাবি করে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা দিয়ে বেরিয়ে যেতে।

ইরানের পালটা হুঁশিয়ারি

এদিকে ইরানের আকাশ বা জলসীমা তো বটেই, ভূখণ্ডে কোনো প্রকার স্থল অভিযানের দুঃসাহস দেখালে একজন আক্রমণকারীকেও জীবিত রাখা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। হুমকি ও পালটা হুমকিতে যুদ্ধের গতি প্রবাহ এগিয়ে চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি’ নতুন কিছু নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক ভাষার অংশ। তবে আধুনিক বিশ্বে এ ধরনের বক্তব্য শুধু সামরিক কৌশল নয়-এটি কূটনৈতিক চাপ, মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং শক্তির প্রদর্শনের এক জটিল সমন্বয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বাস্তবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা শুধু একটি দেশ নয়, পুরো অঞ্চল এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।


আল–জাজিরার বিশ্লেষণ থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত।

বিজ্ঞাপন

আরো

আবু সাঈদ সজল - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর