Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইতালি উপকূলে নৌকাডুবিতে বাংলাদেশিসহ নিখোঁজ ৮০, উদ্ধার ৩২

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৯ | আপডেট: ৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩০

ঝুঁকি নিয়ে নৌকায়ে সমুদ্র পাড়ি দেয় অভিবাসন প্রত্যাশীরা।

ইতালির লাম্পেদুসা উপকূলে অবৈধ অভিবাসী বহনকারী নৌকাডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানিয়েছেন, বহু অভিবাসী নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। নৌকাটিতে প্রায় ১১০ জন যাত্রী ছিলেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) জার্মানির গণমাধ্যম টাগেসচাও ও ইতালির গণমাধ্যম আনসা এই খবর জানিয়েছে।

উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা অধিকাংশই বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া ৩২ জন অভিবাসী লাম্পেদুসার ফাভারোলো জেটিতে পৌঁছানোর পর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে নৌকায় মোট ১১০ জন যাত্রী ছিলেন। ইতালীয় কোস্টগার্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অন্তত ৮০ জন সাগরে ডুবে হারিয়ে গেছেন।

বিজ্ঞাপন

ইতালির কোস্টগার্ডের টহল জাহাজ সিপি ৩২৭ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়।

এ সময় তাদের সঙ্গে ইয়েভোলি গ্রে ও সাভেদ্রা টাইড নামের দুটি জাহাজও অংশ নিয়েছিল। উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত দুটি মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের ভাষ্য, ১২ থেকে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি কাঠের নৌকায় তারা লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর উত্তাল সাগরের কারণে নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে এবং প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর সেটি উল্টে যায়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও একটি টাগবোট ৩২ জনকে উদ্ধার করে। পরে ইতালীয় কোস্টগার্ড তাদের লাম্পেদুসায় নিয়ে আসে।

ভূমধ্যসাগর যেন অভিবাসী মৃত্যুর কূপ

আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইস্টারের মতো আশার দিনে আবারও লিবিয়া উপকূলে প্রাণহানির ঘটনায় আমরা শোকাহত। ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মানুষ বিপজ্জনক এই যাত্রায় নামছে, আর ভূমধ্যসাগর বারবার মৃত্যুর সীমান্তে পরিণত হচ্ছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ মানুষ ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারিয়েছেন। চলতি বছরেই মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক শিশু রয়েছে।

সংস্থাটির মতে, সমন্বিত ইউরোপীয় উদ্ধার ব্যবস্থার অভাব এবং নিরাপদ অভিবাসন পথ না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাত্রা করছে। ফলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন পথ চালু করা এবং সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর