Tuesday 07 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিমান হামলার মুখেও অনড় ইরান, আজই শেষ হচ্ছে ট্রাম্পের আলটিমেটাম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩৮ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫৪

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের শর্ত মেনে নেওয়া অথবা হুমকির মুখেও তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আভাস দিয়ে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা এখন একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পর্যায়ে’ রয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তান একটি অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বিনিময়ে ইরান এই অঞ্চলে সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন সহায়তাসহ ১০ দফা দাবি পেশ করেছে।

গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক কঠোর হুঁশিয়ারিতে বলেন, ‘পুরো দেশ এক রাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে, আর সেই রাত হতে পারে আগামীকাল।’

তিনি বলেন, তেহরান বুধবার ভোররাতের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো জ্বালিয়ে দেওয়া হবে এবং দেশটির প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানও ইসরায়েলের দিকে পালটা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েল সাধারণ ইরানিদের ট্রেন এবং রেললাইন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরব তাদের জ্বালানি স্থাপনার দিকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ পর্যন্ত ইরান থেকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে সৌদি আরব। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব তাদের নাগরিকদের জন্য জননিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের দূত ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘সরাসরি সন্ত্রাসবাদে উস্কানি’ এবং ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইরানের সামরিক কমান্ড ট্রাম্পের এই হুঙ্কারকে ‘প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া ইরানের উপ-ক্রীড়ামন্ত্রী দেশটির শিল্পী ও অ্যাথলেটদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে ‘মানব ঢাল’ তৈরি করে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদ জানান।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব ও তেলের বাজার

যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে খনিজ তেলের সরবরাহকারী প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ থাকায় তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সারাবাংলা/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর