মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি মানতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে এই হুমকি দেন।
চুক্তি মানা বা না মানা প্রসঙ্গে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি কোনো কারণে তা না হয় (চুক্তি মানা না হয়)—তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম—তাহলে গোলাবর্ষণ শুরু হবে। আরও বড়, আরও ভয়াবহ এবং আরও শক্তিশালীভাবে তা হবে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’
ট্রাম্প আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ ও যুদ্ধবিমান ইরানের আশপাশে অবস্থান করবে। যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, উড়োজাহাজ, সামরিক সদস্য, অতিরিক্ত গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র ইরানের ভেতরে ও আশপাশে অবস্থান করবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত চুক্তি পুরোপুরি মানা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন তেহরান যদি আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে মার্কিন সেনারা আবার যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছেন।

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।ছবি: রয়টার্স
যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি করতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত আটটা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়সীমা না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তবে সময় শেষের ঘণ্টা দুয়েক আগেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে দুই পক্ষ থেকে।
এর এক দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন মন্তব্য এল।
এই মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বুধবার পেন্টাগনের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আশা করি, ইরান স্থায়ী শান্তিকে বেছে নেবে।’
এর আগে, ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা এগোনোটা হবে অযৌক্তিক।
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি কর্মকর্তাদের আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।