ঢাকা: লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হামরা এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় দিপালী নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) এক বিষ্ফোরণে দীপালীসহ বৈরুতের ওই পরিবারের ৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
দীপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জল ওরফে মোকা শেখ এর মেয়ে। ২০২৪ সালে দীপালী গৃহকর্মী হিসেবে লেবাননে যায়। সেখানে সে গৃহকর্মী হিসেবে একটি পরিবারের সঙ্গে থাকত।
ছোট বোন লাইজু বেগম জানান, দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে দীপালি চতুর্থ। তার মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরী ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। বৈরুতে থাকা বাংলাদেশীদের মাধ্যেমে খবর পেয়ে দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দূতাবাসের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই হামলায় দিপালীর কফিল ও তার পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আমরা জেনেছি। মরদেহ দেশে আনতে পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস নিহত দিপালীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দূতাবাস প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।
উল্লেখ্য, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই লেবাননে ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।
বুধবারের মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে ৫০টি যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশটির বৈরুত ও অন্যান্য অঞ্চলে ১০০ বারেরও বেশি বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।
নারকীয় এ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক জরুরি সতর্কবার্তায় লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে বৈরুতের ১৪টি এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য আক্রমণের বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা প্রদান করা হলো। এলাকাগুলো হলো, সাবরা শাতিলা, শাতিলা, বুর্জ আল বারাজনে, আল-রিহাব, ইজনাহ, বীর হাসান, হাইছুলুম, এয়ারপোর্ট রোড, আল-উযায়ী, আল-শিয়েহ, তারিক আল-জাদিদের উপকণ্ঠ, আল-তাইউনেহ, ফুর্ন আল-শুব্বাকের উপকণ্ঠ ও বাদারো (আল-শিয়ার কাছে)।