পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল দুই দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে কথা বলবে। কিন্তু তারা একেঅপরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। তবে যেখানে আলোচনা হচ্ছে, সেখানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও উপস্থিত আছেন।
পাকিস্তান সরকারের সূত্রে বরাতে বিবিসি উর্দু জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় এই আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে ইরানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধি দল। বৈঠকে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও। আর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বধীন মার্কিন প্রতিনিধি দলের রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার।
মধ্যস্ততায় পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে ছিলেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একই কক্ষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে এটি হবে ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমবারের মতো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তাসহ মৌলিক শর্তগুলোর বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এর মধ্যে ইরানিদের দাবিকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ও রয়েছে। তবে এখনও প্রাথমিক পর্যায় এবং এর অনেক কিছুই নিশ্চিত হওয়া বাকি, কিন্তু একটি বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তানিরা এখনও খুবই আশাবাদী।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইসলামাবাদের বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল সেরেনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে, যা পাকিস্তানের রাজধানীর অন্যতম সুরক্ষিত ভবন হিসেবে আর্বিভূত হয়েছে।
এরআগে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে আসা ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এসব বৈঠকের ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার বিস্তারিত বিষয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।