Sunday 12 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হরমুজ প্রণালির মাইন অপসারণে ২ মার্কিন রণতরী মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:০৩

হরমুজ প্রণালিতে দুই মার্কিন রণতরী। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণে তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। প্রাথমিকভাবে এ অভিযানে দুটি রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। ইরানের আইআরজিসির পেতে রাখা মাইন অপসারণে বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেন্টকমের শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, আমরা হরমুজে একটি নতুন ও নিরাপদ পথ তৈরির কাজ শুরু করেছি। প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ।

তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই বেসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযান চালানোর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে জলমাইন স্থাপন করে আইআরজিসি। তবে বর্তমানে ঠিক কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছে, তা নিজেরাই নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারছে না তারা।

এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, মাইন পোঁতার সঠিক নথি সংরক্ষণ করা হয়নি। এছাড়া যেসব স্থানের তথ্য রয়েছে, সেখানকার অনেক মাইন ভেসে গেছে বা অবস্থান পরিবর্তন করেছে। ফলে মাইন অপসারণ কার্যক্রম ইরানের জন্যও জটিল হয়ে উঠেছে।

এ দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, খুব দ্রুতই মাইন ধ্বংসকারী যন্ত্রচালিত নৌযান সেখানে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এই বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্রিয় ইরান, যারা জাহাজ চলাচলে ইরানি মুদ্রায় টোল আরোপ করতে চায়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান—আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে এখানে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে, এবং টোল দেওয়ার বিষয়টিও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর