চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ৯০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৩ মে) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এপি।
সিনহুয়া জানায়, শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় চাংঝি শহরের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনার সময় খনিতে প্রায় ২৪৭ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। শনিবার (২৩ মে) বিকেল পর্যন্ত অন্তত ৯ জন শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন এবং ১২০ জনের বেশি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে, আহতদের অনেকেই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
হাসপাতালে ভর্তি এক শ্রমিক ওয়াং ইয়ং সিসিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি বিস্ফোরণের আগে সালফারের মতো গন্ধ পান এবং চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ দৌড়াচ্ছিল, ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল… তারপর আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।’
সিনহুয়ার খবরে আরও বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং শত শত উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসাকর্মী ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাতে জানানো হয়েছে, খনি দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোম্পানির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় পরিষদ (স্টেট কাউন্সিল) একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কয়লাখনির নকশা বাস্তব কাঠামোর সঙ্গে মিল না থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শানসি টংঝো কোল অ্যান্ড কোক গ্রুপ পরিচালিত এই খনির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১২ লাখ টন। উচ্চ গ্যাস উপস্থিতির কারণে ২০২৪ সালে এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ খনির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, শানসি প্রদেশ চীনের প্রধান কয়লা খনি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আয়তনে গ্রিসের চেয়েও বড় এবং প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যার এই প্রদেশের কয়েক লাখ খনি শ্রমিক কাজ করেন। গত বছর ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করেছেন তারা। এটি চীনের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। চীনে কয়লা এখনও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি তুলনামূলক সস্তা এবং সহজলভ্য, যদিও দেশটি দ্রুত সবুজ জ্বালানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
নিরাপত্তা উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিলেও খনি দুর্ঘটনা সেখানে প্রায়ই ঘটে থাকে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের একটি উন্মুক্ত খনিতে ধসের ঘটনায় ৫৩ জন নিহত হন। এছাড়া ২০০৯ সালের নভেম্বরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে বিস্ফোরণে ১০৮ জন নিহত হয়েছিল।