পাকিস্তানের দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের কোয়েটা শহরে একটি শাটল ট্রেনে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের সূত্রে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রোববার (২৪ মে) সকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ট্রেনটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন।
প্রাদেশিক সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর তিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কারণ, তাদের গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি নেই।
গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে সশস্ত্র সংগঠন বালুচ লিবারেশন আর্মি হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে রয়টার্স এই বিবৃতির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
পাকিস্তানের রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শাটল ট্রেনটি কোয়েটা শহরের ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জন্য যাচ্ছিল। এ সময় প্রাদেশিক রাজধানীর একটি রেললাইনের কাছে বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণে ট্রেনটির ইঞ্জিন ও তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং আরও দুটি বগি উলটে যায়। মন্ত্রণালয় বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।

রেললাইনের কাছে বিস্ফোরণের পর লোকজন ও পুলিশ কর্মকর্তারা জড়ো হয়েছেন। রয়টার্স
একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি আবাসিক এলাকায় ট্রেনের একটি বগিতে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন নিকটবর্তী একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের বাসিন্দা ছিলেন।
ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, রেললাইনের কাছে পুড়ে যাওয়া যানবাহন, ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবন, বিকৃত ধাতু ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে ধোঁয়া উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টে এই ঘটনাকে ‘জঘন্য বোমা বিস্ফোরণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, জাতি বেলুচিস্তানের জনগণের পাশে আছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চে, বিএলএ জঙ্গিরা জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন ছিনতাই করে শত শত মানুষকে জিম্মি করে। এরপর একটি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দিনব্যাপী সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটে। সেসময় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ২১ জন জিম্মি, চারজন সেনা এবং ৩৩ জন হামলাকারীই নিহত হয়েছেন।