মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যস্থতাকারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন ইরানের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে কোনো তাড়াহুড়া না করা হয়। তবে, এর আগে তিনি বলেছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
সোমবার (২৫ মে) বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা ‘গঠনমূলকভাবে’ এগোচ্ছে। তবে ‘দুই পক্ষকেই সময় নিতে হবে ও সঠিকভাবে বিষয়টি সম্পন্ন করতে হবে।’
শনিবার (২৩ মে) ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তির ‘বেশিরভাগ অংশ’ নিয়ে এরইমধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানা গেছে।
ইরানের কর্মকর্তারাও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, দুই পক্ষ ‘চুক্তির খুব কাছেও আছে, আবার অনেক দূরেও আছে।’
অর্থাৎ, কিছু বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা এগোলেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের মতে, আলোচনায় থাকা এই সমঝোতা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়। বরং বেশ কিছু জটিল বিষয়কে পরবর্তীতে আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিধি ও সময়সীমা, ইরানের জব্দকরা তহবিল ছাড় এবং ইরানকে তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের জন্য ওয়াশিংটনের দাবি।
সোমবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘প্রণালীটি খুলে দেওয়ার সক্ষমতার দিক থেকে টেবিলে একটি বেশ জোরালো প্রস্তাব রয়েছে’ এবং ‘পারমাণবিক বিষয়ে একটি অত্যন্ত বাস্তব, গুরুত্বপূর্ণ ও সময়-সীমিত আলোচনায় প্রবেশ করা যাবে।’
এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছেন, এতে ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে।