ঢাকা: আদালতের কর্মঘণ্টায় ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কর্মঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিচারিক জীবন শেষ হয়ে যাবে।
সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে সম্প্রতি আয়োজিত এক অভিভাষণ অনুষ্ঠানে দেশের জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারাঙ্গনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। কোনো বিচারক বা কর্মকর্তা দুর্নীতি বা অনিয়মে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে শুনানি শেষ হওয়ার ৩–৭ দিনের মধ্যে রায় বা আদেশ প্রদান করতে হবে। বিলম্ব হলে নথি পুনরায় পর্যালোচনা করতে হয়, যা সময়ের অপচয় এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ায়।
প্রধান বিচারপতি আরও নির্দেশ দেন, কোর্ট প্রাঙ্গণ ও এজলাসে শৃঙ্খলা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। বাদাম, চা, ডাব বিক্রেতা বা হকারদের আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে না। এছাড়া আইনজীবীদের ড্রেসকোড মেনে চলার বিষয়েও বিচারকদের নজরদারি রাখতে হবে।
অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রম চলে, মাঝে দুপুরের খাবার ও নামাজের জন্য বিরতি থাকে।