ঢাকা: ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ভাগনি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৭ জন আসামি আদালতে হাজির হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি। তবে কারাগারে থাকা রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালতে মামলার আত্মপক্ষ শুনানির দিন ধার্য ছিল।
এদিন কারাগার থেকে খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। অন্যদিকে পলাতক থাকায় বাকি ১৭ আসামি আদালতে হাজির হননি এবং তাদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়নি।
আদালত আগামী ১৩ জানুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে একই আদালতে শেখ হাসিনা, টিউলিপ সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ছিল। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল ইসলাম সাক্ষ্য দেন। তবে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ না হওয়ায় অবশিষ্ট অংশের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক ছয়টি মামলা করে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা পরিবারের তিনটি মামলার বিচার শেষে সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। শেখ রেহানা ও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের একটি মামলাতেও সাজার রায় হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকার সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে প্রত্যেকে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।
শেখ পরিবার ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদসহ মোট ১৮ জন।