ঢাকা: সাভারে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৫ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক হলেন মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য চার সপ্তাহ সময় চান এবং মামলার অগ্রগতি তুলে ধরেন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।
শুনানিকালে মামলার সাত আসামিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন— ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সোহেল, মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও কনস্টেবল মাসুদ মিয়া। মামলার অপর আট আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
নিহত আসহাবুল ইয়ামিন ছিলেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
এ সময় ইয়ামিনকে ধরে টেনে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের কাছে নেওয়া হয় এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তার বুকের বাম পাশে গুলি করা হয়। গুলিতে তার শরীরে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। পরে প্রায় মৃত অবস্থায় তাকে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে রেখে গাড়িটি দিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ইয়ামিনকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। পরে একজন পুলিশ সদস্যকে তার পায়ে পুনরায় গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তাকে মৃত ভেবে গুলি না করে রাস্তায় টেনে রোড ডিভাইডারের পাশে ফেলে রাখা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তখনও ইয়ামিনের নিশ্বাস চলছিল।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।