ঢাকা: জুলাই–আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যায় উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের আইনজীবীদের শুনানি আজ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
পলকের পক্ষে শুনানি করবেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। অপরদিকে পলাতক থাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম শুনানি করবেন।
এর আগে, গত ১১ জানুয়ারি পলকের আইনজীবী কিছু আবেদনসহ শুনানির জন্য সময় চান। এর মধ্যে অন্যতম ছিল তার মক্কেলের সঙ্গে প্রিভিলেজ কমিউনিকেশনের সুযোগ চাওয়া। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ প্রসিকিউশনের আনা চার্জ গঠন প্রশ্নে শুনানি এবং আসামিদের অব্যাহতির আবেদন উপস্থাপন করা হবে।
প্রসিকিউশন জয় ও পলকের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে পলক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরপর তিনটি পোস্ট দিয়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি দেন। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, জয় ও পলকের পরামর্শক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করা হয়। এতে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন নিহত হন।
তৃতীয় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উত্তরা এলাকায় সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডে সহায়তা করেন আসামিরা। তাদের উসকানি ও প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় ছয় বছরের জাবির ইবরাহিম, সাগর হোসেন, সুজনসহ অনেকে নিহত হন।
এর আগে ১১ জানুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠনের আবেদন করেন।
উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর জয়কে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইদিন গ্রেপ্তার থাকা পলককে আদালতে হাজির করা হয়। এরও আগে, ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা ফরমাল চার্জ আমলে নেন আদালত।