ঢাকা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এই মামলায় আসামি ৮ জন।
ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে এ মামলার রায়ের জন্য ২০ জানুয়ারি দিন ধার্য থাকলেও প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম মামলা হলেও রায়ের দিক থেকে দ্বিতীয়।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। ওইদিন চানখারপুল এলাকায় পুলিশের গুলিতে শহিদ হন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া।
এ ঘটনায় গত বছরের ২১ এপ্রিল তদন্ত সংস্থা ৯০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করে। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ মে ট্রাইব্যুনাল-১ এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরবর্তীতে চারজন আসামিকে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক আসামিরা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গ্রেফতার আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে গত বছরের ১৪ জুলাই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করেন। এর মাধ্যমে আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন শহিদ আনাসের বাবা শাহারিয়ার খান পলাশ।
২৩ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় ১০ ডিসেম্বর। ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয় যুক্তিতর্ক। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক এবং পালটা যুক্তি খণ্ডন শেষে ২৪ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও, পরে তা পিছিয়ে ২৬ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
এ মামলায় প্রসিকিউশন জব্দ তালিকা হিসেবে ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও, একটি বই, আরও ১১টি প্রতিবেদন এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ দাখিল করে।
যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ আট আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আসামিপক্ষ বেকসুর খালাস চেয়েছে।
এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী। রায়ে নির্ধারিত হবে এই আট পুলিশের ভাগ্য।