ঢাকা: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি আজ হতে পারে।
রোববার (৮ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চে এ শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে।
এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ আপিলগুলোর পরবর্তী শুনানির জন্য ৫ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আজ আদালতের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। তারও আগে পৃথক দুটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেন।
২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়।
হাইকোর্টের রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের সম্ভাবনা তৈরি হলেও কিছু সাংবিধানিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি একটি আপিল করেছেন। এছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও পৃথক আপিল করা হয়েছে।
আপিল শুনানির সময় সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান ও বিদুয়ানুল করিম।
শুনানিতে হাইকোর্টের রায় ও পঞ্চদশ সংশোধনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরে রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়।
এ ছাড়া রায়ে গণভোটের বিধানসংক্রান্ত সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ (দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত) পুনর্বহাল করা হয়। তবে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী আইন বাতিল না করে বাকি বিধানগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।