Sunday 15 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানো মামলা
সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩২ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৪

ঢাকা: চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেওয়া রায়ের ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার-আশুলিয়া) সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিস্তারিত যুক্তি ও ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। ৫৯১ পৃষ্ঠার এ রায়ে মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ, ঘটনার বিবরণ, দায় নির্ধারণ এবং সাজা দেওয়ার পেছনের আইনি ব্যাখ্যা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল বলেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হলেও উপস্থাপিত প্রমাণে স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে মামলার ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামিরা এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বা চূড়ান্ত রাজনৈতিক নির্দেশদাতা ছিলেন। বরং তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরিচালিত অভিযানে সহায়তার কারণে দায়ী হয়েছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ ছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রসিকিউশন উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। যথাযথ প্রমাণের অভাবে কয়েকজন আসামির সাজা কমানোর বিষয়টিও রায়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জন হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া, আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

এ ছাড়া সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন এবং সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।

এ মামলায় এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস দেওয়া হয়েছে। তিনি মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বর্তমানে মামলার কয়েকজন আসামি গ্রেফতার অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই আবদুল মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর