ঢাকা: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করেছেন গ্রেফতার এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার।
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে এ আবেদন করেন তার আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, চঞ্চল চন্দ্র সরকারের স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ফুটেজের ফরেনসিক পরীক্ষায় এর সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন এরমধ্যে শেষ হওয়ায় রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, চঞ্চল চন্দ্র সরকার ছাড়াও আরও কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া প্রয়োজন। তাই পুনরায় সাফাই সাক্ষ্যের সুযোগ চাওয়া হয়েছে।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল দুপুরের পর চঞ্চলের জবানবন্দি নেওয়ার সময় নির্ধারণ করেন। পাশাপাশি আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি চঞ্চল চন্দ্র সরকার আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশন নতুন ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপনের আবেদন করলে রায় ঘোষণা স্থগিত হয় এবং মামলার প্রথম সাক্ষী আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়।
মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেবল চঞ্চল গ্রেফতার রয়েছেন। বাকি চারজন পলাতক। তারা হলেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রাণ বাঁচাতে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে ভবনের ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একপর্যায়ে তিনি কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও এক পুলিশ সদস্য তার দিকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।
একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন। এছাড়া মায়া ইসলামের ছয় বছর বয়সী নাতি বাসিত খান মুসাও গুলিবিদ্ধ হয়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও শিশুটি এখনও স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে না।