ঢাকা: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনীত কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ। তার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে দেশে সংঘটিত ঘটনাবলির প্রকৃত চিত্র অনুধাবন না করে কেবল প্রসিকিউশনের রাজনৈতিক বয়ানের ওপর ভিত্তি করে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ‘অনুমাননির্ভর রায়’ দিয়েছেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রসিকিউশন পক্ষ ইনুর বিরুদ্ধে যে মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছিল, তাতে মানবতাবিরোধী অপরাধ তো দূরের কথা, কোনো সাধারণ ফৌজদারি অপরাধও প্রকাশ পায়নি। তা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খালাস ও রায় বাতিলের আবেদন জানিয়ে মোট ২৩টি যুক্তিতে আপিল করা হয়েছে।’
ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ বলেন, ‘গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। ৮টি অভিযোগের মধ্যে ৩টিতে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি ৫টি অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়েই উল্লেখ ছিল যে এই মামলার তদন্তে ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতা ছিল। তা সত্ত্বেও একটি ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের ওপর ভিত্তি করে ইনুকে সাজা দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।’
আপিলের যুক্তিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইনুর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথন, ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারকে প্রসিকিউশন মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অথচ এসব কর্মকাণ্ডে অপরাধমূলক কিছু পাওয়া যায়নি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনার পুরো চিত্র অনুধাবন না করে প্রসিকিউশনের রাজনৈতিক বয়ানের ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল এই অনুমাননির্ভর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায় দিয়েছেন বলে দাবি করেন এই আইনজীবী।