ঢাকা: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামির আপিলের শুনানি আগামী ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
এর আগে গত ১৬ মার্চ আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। আদালত ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির সাজাও বহাল রাখেন। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত এ মামলায় ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদনসহ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছায়। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ৬ হাজার ৬২৭ পৃষ্ঠার নথি পাঠানো হয়েছিল।
অন্যদিকে, দণ্ডের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আসামিরা ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন। গত বছরের অক্টোবরে মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে গত ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়।
যাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামির মধ্যে রয়েছেন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার অপু, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মুনতাসির আল জেমি, মোজাহিদুর রহমান, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহ, মাজেদুর রহমান মাজেদ, খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মিজানুর রহমান, শামছুল আরেফিন রাফাত, মুজতবা রাফিদ ও এসএম মাহামুদ সেতু।
এ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা পাঁচ আসামি হলেন মুহতাসিম ফুয়াদ, ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, আকাশ হোসেন ও মোয়াজ আবু হোরায়রা।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ৭ অক্টোবর আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রথমে ১৯ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামান। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন আদালত। পরে হাইকোর্টেও সেই সাজা বহাল থাকে। এবার আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।