Tuesday 27 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাগর-রুনি হত্যা: জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৩১

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে তদন্তের জন্য গঠিত টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টতার যে তথ্য উঠে এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আদালতের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে।

বিজ্ঞাপন

নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়। ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর ও চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল আরও ছয় মাস করে সময় দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ছিলেন। পরদিন সকালে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করে। একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমকে।

পরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সংস্থাটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে তারা ২০১২ সালে রিট করেছিলেন। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। পরে পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে, মামলায় বাদীপক্ষের আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দীর্ঘ ১৪ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হয়নি। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে নতুন করে সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসায় মামলার তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর