ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ যাতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর ফিরে না যায়, সে জন্যই এবারের গণভোট।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোট বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের ১৭ হাজার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীর জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং আওতাধীন সকল দফতর-সংস্থার কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা ভার্চুয়ালি এই সভায় অংশ নেন।
বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটের এই সুযোগ আগামী ৫ বছর বা ১০ বছরে আর আসবে না। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, তা ঠিক করে দেওয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগাতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশের যে কয়টি মন্ত্রণালয়ের উপজেলা-ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে জনবল আছে, তাদের মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় অন্যতম। জনগণের সঙ্গে আপনাদের যে যোগাযোগ আছে, তার মধ্য দিয়ে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
গণভোট-সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ও বিগত ১৬ বছরের সংগ্রামে হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। তারা প্রাণ দিয়ে আমাদের এই দায়িত্ব দিয়ে গেছেন—এমন ব্যবস্থা করার, যেন আমরা আগের সেই অবস্থায় ফিরে না যাই।’
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, ‘গণভোটকে আপনারা মানুষের কাছে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করুন।’
মানুষের কাছে যেন বিষয়টি সহজবোধ্য হয়, সে জন্য গণভোটকে হ্যাঁ-না ভোট হিসেবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি গণভোটের ফলে কী কী পরিবর্তন আসবে, তা সময় নিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে বলার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
গত ৫৪ বছরেও এই অতি সাধারণ আকাঙ্ক্ষা পূরণে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি—উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের শাসন ও জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমরা সবাই উপলব্ধি করেছি যে, এই শাসন ও সাংবিধানিক ব্যবস্থার একটি বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।’
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার আগামীতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা আবার যেন ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি গণভোট বিষয়ে জনমত সৃষ্টির জন্য প্রস্তুতকৃত লিফলেটের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো কর্মকর্তাদের সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে মন্ত্রণালয় ও দফতর-সংস্থাগুলো ড্রপ-ডাউন ব্যানার স্থাপন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লিফলেট প্রস্তুত ও বিতরণ, কৃষি তথ্য সার্ভিসের মোবাইল ভ্যান ও আঞ্চলিক রেডিও সেন্টার থেকে প্রচার, প্রকল্প এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টিতে সভা-সমাবেশ আয়োজনের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের ২৪/৭ হটলাইন সার্ভিস গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করবে।