ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের ওপর টানা নয় দিনের শুনানি শেষ হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি শেষে ৪২২ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, যা মোট আপিলকারীর ৬৫ শতাংশের বেশি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানির নবম ও শেষ দিন অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানি শেষে ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, গত ১০ জানুয়ারি আপিল শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনে ৫১ জন, দ্বিতীয় দিনে ৫৮ জন, তৃতীয় দিনে ৪১ জন, চতুর্থ দিনে ৪৪ জন, পঞ্চম দিনে ৭৩ জন, ষষ্ঠ দিনে ৩৩ জন প্রার্থী, সপ্তম দিনে ৬০ জন, অষ্টম দিনে ৪৪ জন এবং শেষ দিনে ২১ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। সবমিলিয়ে নয় দিনে বাতিল ও গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর ৪২২, নামঞ্জুর ১৯৫ এবং অনুপস্থিত, অন্যান্য ২৮টিসহ মোট ৬৪৫টি।
গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর ৩০০ আসনে বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৪২ জন। এর পর ৬৪৫ জন আপিল করেন। ১০ জানুয়ারি থেকে রোববার টানা নয় দিনে আপিলে ৪২২ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২২৬৪ জন।
এদিকে, নবম দিনের শুনানিতে বেশিরভাগ ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা ২৩ প্রার্থীর মধ্যে দু’জনের মনোনয়ন বাতিল, একজনের রায় স্থগিত ও ২০ জনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ করে দিয়েছে কমিশন। শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভূইঞার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। আর কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদের তুরস্কের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য তার প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে ইসি। তবে কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৩ আসনে তার প্রার্থিতা বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয়ে যাদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই তারা হলেন জামায়াতের ঢাকা-১ আসনে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপি’র একেএম কামরুজ্জামান, সাতক্ষীর-৪ বিএনপি মনিরুজ্জামান, ফরিদপুর-২ বিএনপির শামা ওবায়েদ, সুনামগঞ্জ-২ তাহির রায়হান বিএনপি, মৌলভীবাজার -২ বিএনপির শওকতুল ইসলাম, হবিগঞ্জ-১ স্বতন্ত্র সুজাত মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ জামায়াতের জুনায়েদ হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ বিএনপি কবির আহমেদ ভুইয়া, ফেনী-৩ বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নোয়াখালী-১ আসনে স্বতন্ত্র জহিরুল ইসলাম, রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মো. মঞ্জুম আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জাপার খোরশেদ আলম, নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিশের আজাদুল হক, যশোর-২-এ জামায়াতের মোসলেম উদ্দীন ফরিদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের একে ফজলুল হক, শেরপুর-২ আসনে বিএনপির ফাহিম, চট্টগ্রাম-৩-এ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমজাদ হোসেন, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াতের মাহবুব আলম সালেহ, মানিকগঞ্জ-৩-এ বিএনপির আফরোজা খানম রিতা ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
এছাড়া, ঋণখেলাপির অভিযোগে এদিন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছে।